ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির এক নারী কর্মী ফরিদা বেগম ‘না ভোটের’ পক্ষে প্রচারণা চালান। ওই ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এক কর্মী ‘সবুজ লাইব্রেরি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তাকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। মঙ্গলবার দুপুরে ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ভোজেশ্বর এলাকায় প্রথমে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষে আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম রাসেল হাওলাদার বলেন,
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রতিদিনের মতো ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ডে জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী তাকে গালাগালি ও মারধর করে।
তিনি অভিযোগ করেন, পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নড়িয়া উপজেলা আমির কাজী আবুল বাশার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,
জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তাদের ছয় থেকে সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে জামায়াত কোনো সংঘাত চায় না উল্লেখ করে তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাহার মিয়া বলেন,
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
