চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে চলছে সরকারের ঘোষিত ২২ দিনের ইলিশ রক্ষা অভিযান। মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদীতে জাল ফেললেই অভিযান চালাচ্ছে নৌ পুলিশ। ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য পেয়েছে তারা। গত পাঁচ দিনে জব্দ হয়েছে প্রায় ৪ টন ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ, আটক করা হয়েছে ৩২৮ জন জেলে।
নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৯৬ লাখ মিটার অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়েছে—যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। একই সঙ্গে ১৪০টি নৌযান আটক এবং ৮৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই এই কঠোর তৎপরতা।
একজন কর্মকর্তা বলেন,
প্রতিবছর এই সময় নদীতে ব্যাপক হারে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই এখনই যদি আমরা কঠোর না হই, ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
জব্দ করা মাছ স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এতিমখানা ও আশ্রয়কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে। নদীর পাড়ের মানুষ জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন পর এমন ব্যাপক অভিযান নদীতে কিছুটা শান্তি ফিরিয়েছে।
তবে স্থানীয় জেলেদের দাবি—অভিযানের সময় বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত না হলে, তারা টিকে থাকতে পারবে না।
একজন জেলে বলেন,
নিষেধাজ্ঞা মানতে পারি, কিন্তু পেট তো খালি থাকবে না। সরকার যদি একটু সাহায্য করত, নদীতে নামতাম না।
নৌ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলবে পুরো নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ জুড়ে, অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
তাদের লক্ষ্য—নদীতে ইলিশের প্রজনন রক্ষা করে আগামীর প্রজন্মের জন্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা।
