বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে আজ সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই ভোট। তবে নির্বাচনের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিরোধ, অভিযোগ ও বর্জনের নাটকীয়তা।
মোট ১৯১ ভোটার কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮টি ক্লাব আগেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি—নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কাউন্সিলর তালিকায় হস্তক্ষেপ এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ পুরো প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করে তুলেছে।
নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ প্রার্থী, যাদের মধ্যে থেকে ১২ জন নির্বাচিত হবেন পরিচালক হিসেবে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ শেষ মুহূর্তে ভোট বর্জন করেছেন। গত রাতে ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থী ফায়জুর রহমান ভূইয়া ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে প্রতিযোগিতা থেকে সরে যান।
অন্যদিকে, ক্যাটাগরি ১ থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের পরিচালকরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। কেবল রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ভোট হচ্ছে। ক্লাব ও ক্যাটাগরি ২-এ ভোট হচ্ছে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে।
ইতোমধ্যে ৫৮ জন কাউন্সিলর ই-ব্যালটে ভোট প্রদান করেছেন, আর ৯৮ জন সরাসরি ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে ৪৮ ক্লাবের পক্ষে ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজারস তিন দফা দাবি জানিয়েছিল। তাদের প্রস্তাব ছিল—
১️⃣ বর্তমান নির্বাহী পর্ষদের মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন তফসিল ঘোষণা করা,
২️⃣ একটি এডহক কমিটির হাতে দায়িত্ব অর্পণ,
৩️⃣ নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে পুনরায় ভোটের আয়োজন।
ক্লাব অর্গানাইজারদের অভিযোগ, কাউন্সিলরশিপ নির্ধারণে ক্রীড়া প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ১৫টি ক্লাবকে প্রথমে ভোটের অনুমতি দিলেও, পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের চাপে তাদের আবেদন বাতিল করা হয় বলে দাবি করেন সংগঠকরা।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এক অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে। নির্বাচন শেষ হলেও ফলাফল যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেবে—তা এখন প্রায় নিশ্চিত।
