দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রেলস্টেশনে যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু হলো কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ ব্র্যান্ডের অত্যাধুনিক স্ক্যানার বসানো হয়েছে, যা মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান পণ্য শনাক্তে সক্ষম। এখন থেকে প্রতিটি যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যান করানো বাধ্যতামূলক।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ওঠার আগে যাত্রীরা স্ক্যানিং মেশিনে নিজেদের লাগেজ রাখছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্ক্যানিংয়ে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ খুলে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাত্রীরাও এ প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এই উদ্যোগ ট্রেনভিত্তিক অপরাধ ও মাদক পরিবহন রোধে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্ক্যানিং মেশিনটি ওষুধজাত দ্রব্য, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাই পণ্য শনাক্তে সক্ষম। শুধুমাত্র সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত হলেই ব্যাগ খোলা হবে, যাতে যাত্রী হয়রানির শিকার না হন।
স্টেশন মাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও কক্সবাজার—এই তিনটি স্টেশনে স্ক্যানার বসানো হয়েছে, তবে নিয়মিত অপারেশন শুরু হয়েছে কক্সবাজার থেকেই। সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।
নতুন প্রযুক্তি নিয়ে যাত্রীদের মাঝেও স্বস্তি দেখা গেছে। ঢাকাগামী এক যাত্রী জানান, এই উদ্যোগে নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে, তবে দ্রুত স্ক্যানিং করলে ভোগান্তিও কমবে। আরেক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে যারা ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এটি আশ্বাসের বিষয়।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্ক্যানারটি শুধু ধাতব বস্তু নয়, অজানা ও নিষিদ্ধ পণ্যও শনাক্ত করতে সক্ষম। এটি ট্রেনযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রেললাইনে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর। বর্তমানে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’, এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ চলাচল করছে।
