জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর প্রেমঘটিত তথ্য।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং তার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জেরেই ঘটেছে এই হত্যাকাণ্ড।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা ও মাহির ছোটবেলা থেকেই একই মহল্লায় বড় হয়েছেন। নয় বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা সম্প্রতি ভেঙে যায়। সম্পর্ক ভাঙার পর বর্ষা মাহিরকে জানান যে তিনি জুবায়েদকে পছন্দ করেন, যদিও জুবায়েদকে সরাসরি কিছু বলেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহির বন্ধুর সহায়তায় জুবায়েদকে খুনের পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটির প্রেমঘটিত দিক স্বীকার করলেও হত্যার পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। সোমবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) সকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি পুরোপুরি শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
জানা গেছে, রোববার (১৯ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুরবক্স লেনের তৃতীয় তলায় বর্ষার বাসায় জুবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনি ওই বাসায় গত এক বছর ধরে বর্ষাকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। ঘটনার পরপরই সিঁড়ি ও করিডোরজুড়ে রক্তের দাগ পাওয়া যায়।
মৃত জুবায়েদ কুমিল্লার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেম, প্রতারণা ও প্রতিশোধের জটিল সূত্র রয়েছে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।
পরবর্তী পর্যায়ে অভিযুক্তদের জবানবন্দি ও ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
