জুলাই সনদে নতুন করে স্বাক্ষরের সুযোগ খুঁজছে একটি রাজনৈতিক দল: সালাহউদ্দিন আহমদ

আবিদা সুলতানা, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল এখন জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে। তিনি দলের নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিত দেন যে, সংশ্লিষ্ট দলের কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে এবং এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,

দুটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বাকিরা সবাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবে একমত। তবে ঐ দুই দলের একটি ইতিমধ্যেই সনদ স্বাক্ষর করেছে, আর অন্যটি এখন সুযোগ খুঁজছে। তাদের কিছু যৌক্তিক দাবি আছে, এবং আমার বিশ্বাস আলোচনার মাধ্যমে সেটির সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন,

গতকাল একটি দল বলেছে, জনমতের চাপে বিএনপি নাকি গণভোটের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। অথচ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব প্রথমে দিয়েছিল বিএনপি। এখন তারাই বলছে, আমরা নাকি রাজি হয়েছি!

স্মর্তব্য, ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদে একাধিক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেন, তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সে অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল।

বক্তব্যে বিএনপির এই নেতা বলেন,

যত আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কারই হোক না কেন, মানসিক সংস্কার ছাড়া সেগুলো কার্যকর হবে না। রাষ্ট্রকে আইন, বিধি ও নিয়মের ভিত্তিতে পরিচালিত করতে হলে রাজনৈতিক আবেগ থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন,

কেউ কেউ বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা আইন জারি করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারেন। এটা একেবারেই অসাংবিধানিক দাবি। প্রধান উপদেষ্টার হাতে এমন কোনো আইন জারি করার ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে নয়, আইনি কাঠামো দিয়েই চলে।

সালাহউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানান, যেন তারা “জনমনে সুখ পাওয়ার মতো প্রস্তাব” না দিয়ে, বাস্তবিক ও সংবিধানসম্মত পথেই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তোলে।

সেমিনারে বক্তারা তরুণদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে নানা প্রস্তাব রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস. এম. হাফিজুর রহমান ও শাহ শামীম আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর বলেন,

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা একজন স্নাতককে পর্যাপ্ত দক্ষ করে তুলছে না। ফলে শিক্ষিত বেকারত্ব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইউট্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আ. ফ. ম. ইউসুফ হায়দার বলেন,

দক্ষ স্নাতক গড়ে তুলতে হলে যোগাযোগ, বিশ্লেষণ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান এ আসাদ বলেন,

শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় সহায়তা জরুরি।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. আবদুল আওয়াল বলেন,

ছাত্রদের জন্য সুদের বাইরে শিক্ষা ঋণ এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক চাকরির সুযোগ দিলে তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে।

সেমিনারের সভাপতি ও ইউট্যাব প্রেসিডেন্ট এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন,

একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের শিক্ষার মান এমন পর্যায়ে নেমে গেছে যে, এইচএসসি এখন স্নাতক ডিগ্রির সমান বিবেচিত হচ্ছে। এটি লজ্জাজনক এবং আমাদের শিক্ষানীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার সময় এসেছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রমুখ।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *