হাইপ্রোফাইল লড়াইয়ের শেষে জামানত খোয়ালেন আলোচিত মুখগুলো

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এখন আলোচনায় রয়েছেন জামানত হারানো প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারও অসংখ্য প্রার্থী সেই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। তালিকায় যেমন ছোট দলের প্রার্থী রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও।

নির্বাচন কমিশন এখনো জামানত হারানো সব প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দলীয় কেটলি প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২৬ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় তিনি জামানত হারিয়েছেন।

মো. তারেক রহমান

ঢাকা-১২ আসনে আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪ ভোট। তিনিও জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

সিলেট-২ আসন

এই আসনে তিন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন (হাতপাখা) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ৪০৪ ভোট এবং গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য) পেয়েছেন ৬৩২ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ আসন

জাতীয় নাগরিক পার্টির জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৮ ভোট এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ এমদাদুল হক পেয়েছেন ৮৭০ ভোট। তিনজনই জামানত হারিয়েছেন।

গাইবান্ধা-১ আসন

আট প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)-এর পরমানন্দ দাস পেয়েছেন ৩৯৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. ছালমা আক্তার পেয়েছেন ৩৬৯ ভোট, আমজনতা দলের মো. কওছর আজম হাননু পেয়েছেন ১৭৪ ভোট, স্বতন্ত্র হিসেবে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন পেয়েছেন ২৭ হাজার ৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রমজান আলী পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩ ভোট। প্রয়োজনীয় হার অর্জন করতে না পারায় তাঁরা জামানত হারান।

নেত্রকোনা-৪ আসন

এই আসনে দুই নারী প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮২ ভোট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন আসন

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন জামানত হারিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় পার্টির মোহা. আফজাল হোসেন (২ হাজার ২৬৩ ভোট), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম (৫৫৭ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনিরুল ইসলাম (১ হাজার ৮৩ ভোট) এবং ইসলামী ফ্রন্টের নবাব মো. শামসুল হোদা (৪৪৬ ভোট) জামানত হারিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. সাদেকুল ইসলাম (৬২৬ ভোট), জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম (৮ হাজার ১৭৫ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইব্রাহিম খলিল (১ হাজার ৬৯ ভোট) জামানত হারিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ফজলুর ইসলাম খাঁন সুমন (৬৩৭ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মনিরুল ইসলাম (৮২০ ভোট) এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলাম (৩৬১ ভোট) জামানত হারিয়েছেন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *