গণমাধ্যমের সংকট নিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর খোলামেলা মন্তব্য

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

বাংলাদেশে সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপি (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ, বেতন কাঠামোর অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং কর্পোরেট প্রভাবের নানা দিক।

তিনি লেখেন, অনেক পরিশ্রমী সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় যে এই পেশার ভেতরে রয়েছে গভীর কাঠামোগত সংকট। দেশে টেলিভিশনের জন্য আলাদা কোনো আইন না থাকায় সরকার চাইলে যেকোনো সময় চ্যানেল বন্ধ করে দিতে পারে। অনলাইন ও টিভি মাধ্যমে নির্ধারিত কোনো বেতন কাঠামো নেই। ঢাকায় অনেক সাংবাদিক মাসে মাত্র ৮–১০ হাজার টাকা পান। মফস্বলে অধিকাংশ সাংবাদিক কোনো বেতনই পান না; বরং অনেক সময় শুধু আইডি কার্ড পাওয়ার জন্যই উল্টো টাকা গুনতে হয়।

পত্রিকা খাতে এখনো ২০১৩ সালের অষ্টম ওয়েজবোর্ড চালু থাকলেও এটি বাধ্যতামূলক নয়। ফলে মালিকদের অনেকে তা মানেন না। এমনকি যেখানে বেতন দেওয়া হয়, সেখানেও ৪–৫ মাস বকেয়া থাকা অস্বাভাবিক নয়। চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই—মালিক চাইলে যেকোনো সময় ছাঁটাই করতে পারেন। এ অবস্থায় সাংবাদিকরা এক অনিশ্চিত জীবনে বাস করছেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর লেখায় আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হত্যার বিচার না হওয়ায় তাদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ। বিশেষ করে ডিজিএফআইয়ের প্রভাব তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, তাদের নির্দেশ না মানলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়, মালিকদের অন্যান্য ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়, নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ফলে মিডিয়া মালিকরা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে বাধ্য হন, আর সাংবাদিকদের রাজনৈতিক দালালি করতে চাপ দেওয়া হয়।

কর্পোরেট নেক্সাসের কথাও এসময় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, বিশেষ করে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া সন্ত্রাস অনেক সংবাদকর্মীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে ফেসবুকে রিপোর্ট করিয়ে আইডি রেস্ট্রিক্টেড করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এনসিপি নেতা মনে করেন, সাংবাদিকদের আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক চাপ, গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণ এবং কর্পোরেট প্রভাব একসঙ্গে মিলে আজ বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং সংবাদকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *