ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে—এমন দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে নির্বাচন বিঘ্নিত করার মতো শক্তি এখন আর বিরোধী পক্ষের হাতে নেই। সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা এই মূল্যায়নকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
প্রথমত, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলেও পুরো প্রক্রিয়াটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। প্রত্যাশিত বিদ্রোহ, সংঘর্ষ বা বিক্ষোভের কিছুই ঘটেনি। এতে প্রমাণিত হয়—দলের অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে, যা নির্বাচনকালীন সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেক কমিয়ে দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের তৃণমূল শক্তি এখন ভাঙনগ্রস্ত—এমন দাবি করেন প্রেস সচিব। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলটির মাঠের সাংগঠনিক সক্ষমতা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত এবং তারা মূলত স্বল্পমাত্রার নাশকতামূলক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে নির্ভরশীল। ফলে নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো বাস্তব ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।
তৃতীয়ত, প্রশাসন, পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী—সব স্তরে সমন্বয়, প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অভিজ্ঞ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম হওয়ায় ভোটের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে বলে তার বিশ্বাস।
সবশেষে, তিনি মনে করেন—রাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
