মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চলছে, দাবি ড. মাহদী আমিনের

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

4 Min Read

রাজধানীর জনবহুল মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও পাথর মেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা অপপ্রচার ও গুজবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে কোণঠাসা করা।

সোমবার (১৪ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে ড. মাহদী আমিন এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রচলিত ১০টি ‘অপপ্রচার’ এবং তার বিপরীতে ‘তথ্যভিত্তিক বাস্তবতা’ তুলে ধরেছেন।

ড. মাহদী আমিনের পোস্টে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ভিডিওতে যাদের পাথর ও ইট দিয়ে মারতে দেখা গেছে, তারা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মী নয়। ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিরা এবং বহিষ্কৃতরা ভিন্ন ব্যক্তি। এজাহারে প্রকৃত খুনিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। পরিবারের দাবি, দ্বিতীয় এজাহারে মূল তিন আসামির নাম বাদ দিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিহতের মায়ের অজান্তেই সিগনেচার করিয়ে নেওয়া হয়।

লালবাগ বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনি বলেন, “অপরাধের ভিত্তিতে অপরাধী শনাক্ত করা আমাদের মূল কাজ। যদি কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, সেটি আমরা প্রকাশ করব।”

পোস্টে দাবি করা হয়, হত্যাকাণ্ড ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়নি। বরং হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ১১ জুলাই জুমার নামাজের পর দেশের প্রাইম টাইমে ভিডিও এবং বিকৃত তথ্য প্রচার শুরু হয়। “খুলনা, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটলেও সেসব নিয়ে নির্লিপ্ত থাকা এক গোষ্ঠী হঠাৎ করে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে,” মন্তব্য করেন ড. মাহদী।

ড. মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে তৈরি করা ‘মিসলিডিং ফটোকার্ড’ অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এটি স্পষ্ট যে, অনলাইনে প্রোপাগান্ডা শুরুর আগেই কিছু গ্রাফিক্স ও ন্যারেটিভ তৈরি করে রাখা হয়েছিল।”

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, মিটফোর্ডের এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। ড. মাহদী বলেন, “দলীয় পদ থেকে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা না করে উল্টো ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিএনপিকে হেয় করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

ঘটনাটি চাঁদাবাজির কারণে ঘটেছে— এমন প্রচারণা একেবারেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ড. মাহদী আমিন। পুলিশ ও স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয়। বরং স্থানীয় ব্যবসায়িক ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।”

ড. মাহদী আমিন মন্তব্য করেছেন, “রাজধানীর জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে একজন মানুষকে এভাবে হত্যা শুধু আইন-শৃঙ্খলার শোচনীয় অবস্থা নয়, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ভয়াবহ প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, “জনগণ চায় অন্তর্বর্তী সরকার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুক এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটে ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।”

নিহতের পরিবারও গণমাধ্যমে জানিয়েছে, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তারা প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মামলার অগ্রগতি, প্রকৃত আসামিরা কেন এখনও অধরা, এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রোপাগান্ডার অভিযোগ— এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষ।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *