গাজায় আবারও বোমাবর্ষণ—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিমান ও গোলাবর্ষণে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনী শহরজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায়। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন,
রাতটি ছিল ভয়ংকর—ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো গাজার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বোমা বর্ষণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানানোর পরও কোনো ধরনের সংযম দেখা যায়নি।
সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, রাতভর অন্তত ২০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। গাজার ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে যে, তুফাহ এলাকায় এক বাড়িতে হামলায় চারজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। একইভাবে খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের একটি শিবিরে ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত ও আটজন আহত হয়।
এর আগে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) হামাস জানায়, তারা মার্কিন প্রস্তাবে আংশিক সম্মত—ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি ও ফিলিস্তিনে একটি নিরপেক্ষ টেকনোক্র্যাট সরকার গঠনের বিষয়টি তারা বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত। হামাসের এই অবস্থান প্রকাশের পরই ট্রাম্প ইসরাইলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার “প্রথম ধাপ” হিসেবে জিম্মি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে সামরিক অভিযানের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের সমঝোতা সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে নীতিগত ফাটল আরও স্পষ্ট করেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা চায়, অন্যদিকে ইসরাইল মনে করছে—যুদ্ধবিরতি এখনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।
গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা শুধু শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং একটি নতুন মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘরবাড়ি, ভেঙে পড়া হাসপাতাল ও শরণার্থীদের কণ্ঠে এখন একটাই দাবি—“যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।”
