ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশালে শুরু হয়েছে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর ডিসি ঘাট থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদফতরের আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য নৌর্যালির মাধ্যমে এ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।
কীর্তনখোলা নদীতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী নৌর্যালিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌবাহিনী, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও কর্মীরা অংশ নেন।
প্রথমবারের মতো এবারের অভিযানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা। পাশাপাশি নদীতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ দল। শুধু নদী নয়—হাট-বাজার, মাছের আড়ত, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালেও চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।
মা ইলিশ সংরক্ষণে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের জন্য রয়েছে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
বরিশাল জেলায় মোট জেলে সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। তাদের মধ্যে কার্ডধারী ৬৬ হাজার জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হচ্ছে। মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন চাল। শুধু বরিশাল বিভাগেই প্রায় সাড়ে চার লাখ জেলে রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাড়ে তিন লাখ পরিবার পাচ্ছে একই সহায়তা।
মা ইলিশ রক্ষায় ৫৪টি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে এবং অভিযান তদারকিতে নিয়োজিত আছেন ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছরের অভিযান আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পাবে। এতে আগামী মৌসুমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলে সমাজের সহযোগিতায় এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সফল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
