অন্তর্বর্তী সরকারের জোরালো অবস্থান দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা ইস্যুতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে নির্বাচনের প্রাক্কালে। বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট নির্মূল এবং রিজার্ভ বৃদ্ধির মতো অর্জনের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে আগাম নির্বাচনের আগেই।
বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যবর্তী ধাপে জ্বালানি সংকটও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ কোটি টাকারও বেশি। যদিও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও আধুনিক সুবিধার অভাবে পণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না। বর্ষায় পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হওয়া, অপ্রতুল শেড ও ইয়ার্ড, এবং ক্ষতিপূরণের অনুপস্থিতি তাদের ক্ষোভের কারণ।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পণ্যের ওজন সঠিকভাবে নির্ধারণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ফলে এই রাজস্ব বাড়ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চাহিদার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত উদ্যোগ। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারি মজুতে চাল ও গম মিলিয়ে ২১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহ এবং বিতরণেও রেকর্ড গড়েছে সরকার, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সাইলো নির্মাণ এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সার্বিক মূল্যস্ফীতির চিত্র উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে, জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুন মাসের তুলনায় কিছুটা বেশি। খাদ্য এবং খাদ্যবহির্ভূত খাত—উভয় ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। বিশেষ করে শহরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ খাতেও বাজেট ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। বৈদেশিক বিদ্যুৎ বিল বাবদ গত এক বছরে পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবসরে পাঠানো, ট্যারিফ হ্রাস, এবং রুফটপ সোলার কর্মসূচির মতো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি হ্রাসের লক্ষ্যে চাহিদা ৪৭ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকায়।
সব মিলিয়ে, দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তবে সমান্তরালে থেকে যাচ্ছে কাঠামোগত দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সেবার মান নিয়ে জনগণের অসন্তোষ। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই সকল বিষয়ের সমাধান কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
