প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক রুটিন প্রকাশ, যেভাবে চলবে ক্লাস

ছিদ্দিকুর রহমান

3 Min Read

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিফট ও দুই শিফটে পরিচালিত স্কুলগুলোর জন্য নতুন সাপ্তাহিক ক্লাস রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রণীত এ রুটিন অনুযায়ী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে শ্রেণিভেদে পিরিয়ড সংখ্যা ও বিষয়ভিত্তিক ক্লাস পরিচালিত হবে।

নতুন রুটিনে এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চারটি করে ক্লাস করতে হবে। আর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে দৈনিক ছয়টি পিরিয়ড। অন্যদিকে দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে চারটি এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রতিদিন পাঁচটি করে পিরিয়ড নিতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক সময় বজায় রেখে প্রধান শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের বাস্তবতা ও সুবিধা অনুযায়ী রুটিনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে পারবেন। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত সপ্তাহে পাঁচ দিন করে পড়ানো হবে। ধর্ম শিক্ষা থাকবে সপ্তাহে তিন দিন এবং বিজ্ঞান চার দিন। শিল্পকলা বিষয়টি সপ্তাহে দুই দিন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

চতুর্থ শ্রেণিতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা সপ্তাহে দুই দিন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এ বিষয়টি এক দিন পড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখন দক্ষতা উন্নয়নে সপ্তাহে এক দিন বিশেষ ক্লাস নেওয়া হবে।

রুটিনে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাতের লেখা, গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, কুইজ, উদ্ভাবনী ধারণা, বিজ্ঞানভিত্তিক কাজ, ইংলিশ স্পিকিং, এসআরএম ও কাবিংসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। নিরাময়মূলক কার্যক্রম ও এসআরএম সপ্তাহে দুই দিন পরিচালনা করতে হবে।

প্রধান শিক্ষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী স্টাফ মিটিং আয়োজন করবেন। প্রান্তিক মূল্যায়নের সময় লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পদ্ধতিতে মূল্যায়ন নেওয়ার সুযোগ থাকবে। যেকোনো মূল্যায়নের উত্তরপত্র এক বছর সংরক্ষণ করতে হবে এবং তিন প্রান্তিকের গড় নম্বরই শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণ্য হবে।

এ ছাড়া গ্রীষ্মকালীন বা শীতকালীন সময়, ভৌগোলিক বাস্তবতা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় পর্যায়ে রুটিনে পরিবর্তন আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নেপ জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের কর্মদিবস ও সাপ্তাহিক রুটিন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবকসহ প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে তৃতীয় শ্রেণিতে তাদের নিজস্ব ভাষায় রচিত পাঠ্যবই অনুসারে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *