সামাজিক মাধ্যমে শোকজ, জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছাত্রদল নেতা হামিমের

ফরহাদ হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধি

3 Min Read

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। তবে এ নোটিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। হামিম জানান, রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নিজের নামে একটি শোকজপত্র দেখতে পান। এরপর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা তাকে ফোন করে জানতে চান—কেন তাকে শোকজ করা হয়েছে। অথচ তিনি নিজেই তখন পর্যন্ত কারণ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করেন। জবাবে তিনি জানান, তিনিও শোকজের নির্দিষ্ট কারণ জানেন না; তবে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির নির্দেশেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে। পরে প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগের পর হামিম জানতে পারেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার আয়োজন করা ইফতার মাহফিল এবং পরবর্তী কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার কারণেই তাকে শোকজ করা হয়েছে।

হামিম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার প্রাণের সংগঠন। অতীতে ডাকসু নির্বাচনে এ সংগঠন থেকেই তিনি জিএস পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ভোট অর্জন করেছিলেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতারের আয়োজন করেন। তার দাবি, ওই আয়োজনে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

শোকজপত্র সরাসরি তার কাছে না পাঠিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার বিষয়টিকে তিনি সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যদি তিনি বড় কোনো অন্যায় করে থাকেন, তবে সেটি ব্যক্তিগতভাবে জানানো উচিত ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করে সরাসরি ফেসবুকে শোকজ প্রকাশ করায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, যদি তার কর্মকাণ্ডে সংগঠনের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির কাছে তিনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।

লিখিত জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও ভিডিওবার্তায় স্পষ্ট করেন হামিম। তার বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে শোকজপত্র না পাওয়ায় তিনি লিখিত জবাব দেবেন না। তার দাবি, তিনি এমন কোনো বড় অন্যায় করেননি যে তাকে সরাসরি অবহিত না করে সামাজিক মাধ্যমে শোকজ প্রকাশ করতে হবে। তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, তার এ কাজকে যদি শিক্ষার্থীরা বা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অন্যায় বলে মনে করেন, তাহলে সে অন্যায়ের দায় তিনি মাথা পেতে নেবেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। আর যদি অনেকে মনে করেন তার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, সে বিষয়টির বিচারও তিনি সবার বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিলেন।

শেষে তিনি বলেন, ব্যক্তি থেকে দল বড় এবং দল থেকে দেশ বড়—এই নীতিতেই তিনি বিশ্বাসী।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *