রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে অস্পষ্ট মানবিক শব্দচয়ন, নেই সমাধান

সিদ্দিকুর রহমান, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সুরক্ষায় বাংলাদেশ এখনো কার্যকর কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক মহলে নাটকীয় ঘোষণার পরও শরণার্থীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যেও বাস্তব সমাধানের কোনো রূপরেখা ছিল না। এর আগে শেখ হাসিনা জাতিসংঘে একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন। দুই নেতাই সমস্যার উৎস মিয়ানমারকে দায়ী করলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাস্তব পদক্ষেপ এড়িয়ে গেছেন।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের কারণে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাতিক মহল প্রশংসা করলেও বাংলাদেশ এখনো ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে যোগ দেয়নি এবং শরণার্থীদের বিষয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ আইনও প্রণয়ন করেনি।

কিন্তু নেতৃত্ব পর্যায় বারবার কেবল প্রথম সংকট নিয়েই কথা বলছে, দ্বিতীয়টির দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট নন-রিফাউলমেন্ট নীতি স্বীকৃতি দিলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার থেকে রোহিঙ্গারা বঞ্চিত হচ্ছে। এই সুযোগে দুষ্টচক্র ও অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো সক্রিয় হয়ে পড়েছে।

চীন ও ভারত—দুই আঞ্চলিক শক্তিই রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় অনাগ্রহী। ভারত তো নিজ দেশে বাংলাদেশিদেরই “উইপোকা” ও “অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফলে বাংলাদেশ এক প্রকার চাপের মুখে পড়ে আছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও পূর্বসূরীর মতোই কেবল অস্পষ্ট মানবিক শব্দচয়ন করছে। ড. ইউনূস সম্মেলনে বলেন,

যদি রাখাইনে প্রতিটি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়, তবে তা হবে একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তবে তিনি কিংবা সরকার—কেউই বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জীবনের নিশ্চয়তা নিয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।

 

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *