পোল্যান্ডের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশ এবং ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে ফ্রান্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা পোল্যান্ডে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে, যা ন্যাটোর পূর্ব ফ্রন্টে প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন,
আমরা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির কাছে নতি স্বীকার করব না।
এই ঘোষণার মাধ্যমে ফ্রান্স শুধু পোল্যান্ড নয়, গোটা ইউরোপের প্রতিরক্ষা নীতিতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
পোলিশ সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ১০ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকটি রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, যেগুলো ভূপাতিত করা হয়। এর ফলে চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা জোরদার হয়।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফ্রান্স ছাড়াও যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড এবং সুইডেন সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, পোল্যান্ড ইউক্রেনের সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন,
হতে পারে এটি ভুলই ছিল। যাই হোক, এই পুরো পরিস্থিতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আশা করি শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তবে পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই ড্রোন ছুড়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া ও বেলারুশ যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে, যার নাম ‘জাপাদ-২০২৫’। বাল্টিক ও বারেন্টস সাগরে এই মহড়া শুরু হয় ১২ সেপ্টেম্বর, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পোল্যান্ডে রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত শুধু প্রতিরক্ষা নয়, এটি ইউরোপের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। রুশ ড্রোন ইস্যু এখন আর শুধু সীমান্ত সমস্যা নয়—এটি হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু।
