জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যের পদত্যাগ। ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এজিএস (পুরুষ) প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান অভিযোগ করেছেন, কমিশনারের এই পদত্যাগ আসলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক অপচেষ্টা।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যুদ্ধের ময়দানে এসে তিনি লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। তাঁর এই পদত্যাগে আমাদের কাছে মনে হয়, নির্বাচনকে ঘিরে যে ষড়যন্ত্র ছিল, তা বাস্তবায়ন করতে না পেরে তিনি এভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন।”
এর আগে রাত পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার। তিনি জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাবেক সহসভাপতি। পদত্যাগপত্রে তিনি জাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
কিন্তু সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের দাবি, তাঁর অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতা হয়েও কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, সেটাই প্রশ্নবিদ্ধ। এ ধরনের আচরণ প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”
জাকসুর এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন, যুগ্ম সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া আটটি প্যানেলের মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। ছাত্রদল, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতির ঐক্য, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ, অঙ্গীকার পরিষদ এবং ছাত্র ফ্রন্টের একটি অংশ ভোটে অংশ নেয়নি। কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বর্জন করেছেন নির্বাচনী লড়াই।
অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগের পর নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। একপক্ষ মনে করছে, এটি কমিশনের ভেতরের দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ; আরেকপক্ষের মতে, নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কৌশল মাত্র।
