খুলনার পাইকগাছায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ভাঙচুরের হুমকি ও পূজা মণ্ডপে হামলার অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব নেওয়াজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতের দিকে পাইকগাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
পাইকগাছার বাতিখালী সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের পুরোহিত অধির মণ্ডল এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পূজা চলাকালে রাজীব মণ্ডপে প্রবেশ করে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ করতে বলেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় তিনি পুরোহিতকে মারধর করার চেষ্টা করেন, যার ফলে পূজা মণ্ডপে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
মামলার কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে রাজীব মণ্ডপের সামনে এসে উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তখন পূজা কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু শুক্রবার সকালেই তিনি পুনরায় মণ্ডপে প্রবেশ করে পুরোহিতকে আঘাত করেন এবং মূর্তি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। মামলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর নামও সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ মাহমুদ বলেন,
অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের পর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সাংগঠনিকভাবেও রাজীব নেওয়াজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হলেও দলের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান রানু ও সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী বলেন,
তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কারণ দর্শানো হয়েছে। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় দল নেবে না।
খুলনার স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ধর্মীয় সহাবস্থানের সময়ে এমন ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আর না বাড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে।
