হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর বুধবার (২২শে অক্টোবর) সকাল থেকেই পণ্য খালাসের কাজে গতি ফিরেছে। আগের দিনের তুলনায় আজ খালাসের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেট দিয়ে স্বল্প পরিসরে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে। সকাল থেকেই সেখানে আমদানিকারক প্রতিনিধি ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের ভিড় দেখা গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মালামাল সাময়িকভাবে বিমান হ্যাঙারে রাখা হচ্ছে, যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা দাফতরিক কার্যক্রম শেষ করে পণ্য ছাড়ের অনুমতি দিচ্ছেন।
কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অনেক ব্যবসায়ী দ্রুত হাতে পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় মালামাল। তবে সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র একটি গেট দিয়ে খালাসের কাজ হওয়ায় সময়মতো পণ্য পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে বিশেষ করে তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ও টিকার মতো পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
গেটে দায়িত্বে থাকা আনসার ও কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খালাস প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হলেও আগের গতি ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে।
গত শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এ ঘটনায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, নিরাপত্তা জোরদার ও বিকল্প পণ্য খালাস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
