যশোরে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলমকে এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। দুদক যশোর কার্যালয়ের একটি টিম অভিযোগের ভিত্তিতে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেয়।
অভিযোগকারী যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ২ অক্টোবর তার স্ত্রী মারা গেলে পেনশন সংক্রান্ত টাকা তুলতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেন তিনি। তবে গত তিন মাস ধরে নানা অজুহাতে তাকে ঘোরাতে থাকেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম।
একপর্যায়ে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হলেও পেনশনের ফাইল ছাড় করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন নুরুন্নবী। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি আপত্তি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে পেনশন ছাড় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন আশরাফুল আলম। এমনকি খুলনা বিভাগের এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন স্কেলও কমিয়ে দেওয়া হয় এবং নানাভাবে হয়রানি করা হতে থাকে।
বুধবার বিকেলে ঘুষের বাকি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে ওই টাকা অফিসে আশরাফুল আলমকে বুঝিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে দুদকের টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে ঘুষের এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
