ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে কড়া অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন যারা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করেছেন বলেও জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ইরানের দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘মোহারেব’-এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর দণ্ড হতে পারে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরানের আইন অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় বলা হয়েছে—ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে লিপ্ত কোনো গোষ্ঠীকে জেনে বা বুঝে সহায়তা করলে, সরাসরি অস্ত্র হাতে না নিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘মোহারেব’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। একইসঙ্গে ১৯০ ধারায় মোহারেবের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, অঙ্গচ্ছেদ অথবা স্থায়ী নির্বাসনের বিধান রয়েছে।
সম্প্রতি প্রসিকিউটরদের উদ্দেশে দেওয়া এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিনষ্ট করছে এবং বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা সহানুভূতি দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।
বিক্ষোভ প্রশমনে সরকার আলোচনার পাশাপাশি সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ফোন যোগাযোগেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
