ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পেছনে মাদক পাচার দমনের কোনো সম্পর্ক নেই—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান জেক অচিনক্লস। তার মতে, এই পুরো রক্তপাতের মূল কারণ একটাই—তেল।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, এটি তেলের জন্য সংঘটিত রক্তপাত। তিনি বলেন, যে মাদক যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী, তা কোকেন নয়—ফেন্টানিল, যা আসে চীন থেকে। অথচ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে কোকেন পাচারকে কেন্দ্র করে, যার বড় অংশই ইউরোপে যায়।
অচিনক্লসের মতে, ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে এবং সেটিই যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য। তিনি বলেন, মার্কিন বহুজাতিক তেল কোম্পানি শেভরনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র ব্যবহারের চুক্তি রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অনুমোদনপ্রাপ্ত। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মূলত বড় তেল কোম্পানিগুলোর কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন।
ওয়াশিংটনের দাবি, নিকোলাস মাদুরো, তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এবং ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা ‘নারকো-সন্ত্রাসবাদ’ ও মাদক পাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে কারাকাস।
মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং দেশটির ভেঙে পড়া তেল শিল্প পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল খাত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোলিওস দে ভেনেজুয়েলা নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিশেষ ছাড়ের আওতায় একমাত্র শেভরনই সেখানে তেল উত্তোলন করছে এবং উৎপাদিত তেলের একটি অংশ পিডিভিএসএকে সরবরাহ করছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদিত তেলের বড় একটি অংশ বর্তমানে চীনে বিক্রি হচ্ছে।
টানা কয়েক মাসের সামরিক চাপ ও হুমকির পর শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে মার্কিন বাহিনী।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি এখন আর শুধু রাজনৈতিক সংঘাত নয়—এটি বিশ্ব রাজনীতিতে তেলকে ঘিরে ক্ষমতার নগ্ন বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠছে।
