যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের কাছে থাকা ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ বলছে যে গাজায় ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামাস কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ কর্মসূচি সাজাতে পারে। এমন হামলা ঘটলে তা চলমান যুদ্ধবিরতির সরাসরি ও গুরুতর লঙ্ঘন হবে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি ধ্বংস করতে পারে।
গত ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর পশ্চিমা অংশীদারদের সতর্ক করেছে, তাদের কাছে এমন তথ্য আছে যা ইঙ্গিত দেয় গাজার সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে শিগগিরই হামলা হতে পারে। দফতর জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা হলে ওয়াশিংটন একে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করবে।
রাফাহ সীমান্তের অবস্থা এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। সীমান্ত বন্ধ থাকলে মানবিক সরবরাহ ও উদ্ধার কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সীমান্ত খোলা না থাকলে গাজার অসহায় মানুষ আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
চলমান যুদ্ধবিরতির মূল চুক্তি মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি পক্ষের উদ্যোগে হয়েছিল। হামলা ঘটলে সেই চুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামাস যদি গাজার ভেতরে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তারা সাধারণ মানুষদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেবে, যদিও সেই পদক্ষেপ কী হবে তা প্রকাশ করা হয়নি।
এই সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। কেউ বলছেন, হামাস হয়তো রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায় বা অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। আবার কেউ মনে করছেন, এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণের অংশও হতে পারে।
মানবিক দিক থেকে এটি ভয়াবহ সংকটের বার্তা দিচ্ছে। গাজায় আগেই খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি, আহতদের চিকিৎসার অভাব এবং আশ্রয় সংকট বিদ্যমান। নতুন করে কোনো সংঘর্ষ শুরু হলে শরণার্থী ও হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো, সীমান্ত খোলা রাখা এবং হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জরুরি সরঞ্জাম মজুত করা। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে।
আগামী ৭২ ঘণ্টা গাজা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বিবৃতি, রাফাহ সীমান্তের অবস্থা এবং গাজা অভ্যন্তরে কোনো নতুন সহিংসতার খবর—সবকিছুই এই সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
