ইরানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল—এমন ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায়। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ইরান, লেবানন ও পশ্চিম তীরকে একযোগে সামনে রেখে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তেহরানের বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযানও বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রস্তুতি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যৎ চার বছরের নিরাপত্তা কৌশল শক্তিশালী করা। পরিকল্পনায় আকাশ ও মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থলভিত্তিক নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলায় তেহরান আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানে চলমান অস্থিরতা নিয়ে ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভ দ্রুত বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও সহিংস হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও এসেছে। একইসঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। ইরান পরিস্থিতির যেকোনো মোড় দ্রুত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
