গাজীপুর মহানগরীর শরীফপুর এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র যেন আবারও ফিরে এসেছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এক হত্যাকাণ্ড এখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তি আব্দুল হালিম (৩৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের সক্রিয় কর্মী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে এক যুবক আদিবের সঙ্গে হালিমের বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি ছোটখাটো ঝগড়া হিসেবেই অনেকে ভেবেছিলেন। কিন্তু রাতে স্থানীয় বাজারে কেরাম বোর্ড খেলার সময় ঘটনাটি ভয়ঙ্কর মোড় নেয়। আদিবের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল হঠাৎ হামলা চালায়। গলায় ছুরিকাঘাত করে ফেলে রাখা হয় হালিমকে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। চিকিৎসকরা দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। পথে অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
হালিমের দুই স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। হঠাৎ প্রাণ হারানোয় পরিবারে শোকের মাতম, আর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করেই এই হামলা হয়েছে। অনেকে আবার বলছেন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে টেনে নেওয়া হয়েছে ভয়ঙ্কর পরিণতিতে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, হামলার পেছনে থাকা মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এখনো হয়নি। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
গাজীপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে হালিম পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার প্রভাব ও সক্রিয়তা এ হত্যাকাণ্ডকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এনেছে।
