কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের পর্যটন গলফ মাঠ সংলগ্ন ঝাউবাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে তরুণ সাংবাদিক আমিন উল্লাহর (২৮) মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়দের চোখে পড়ে এই দৃশ্য। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
উখিয়ার দক্ষিণ বালুখালী এলাকার মৃত জুনু মিয়ার ছেলে আমিন উল্লাহ স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার উখিয়া প্রতিনিধি এবং একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ পেজের প্রশাসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফ্রেন্ডশিপ ফিল্ড হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমিন উল্লাহকে সৈকতের ঝাউবাগানে নাইলনের দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। মৃতদেহের পা প্রায় মাটি ছুঁই ছুঁই করছিল। গলায় দড়ির দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।
কক্সবাজার সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক শ. ম. গফুর জানিয়েছেন, বুধবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় গাড়ির অপেক্ষার সময় আমিন উল্লাহর সঙ্গে দেখা হয় তার। সেসময় আমিন জানান, তিনি চট্টগ্রামে ফুপির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এসময় তার সঙ্গে তিনজন অচেনা যুবক ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি কক্সবাজারগামী একটি বাসে রওনা দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
আমিন উল্লাহর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে। একজন তরুণ সাংবাদিক ও হাসপাতাল কর্মীর হঠাৎ এমন মৃত্যু আত্মহত্যা না অন্য কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড— তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে চট্টগ্রামে তার সঙ্গে অচেনা তিন যুবকের উপস্থিতি এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।
