চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ও আবাসন সংকটসহ নানা সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের প্রথম দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রক্টরকে বাদী করে মামলা করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে তাদের চাকরিচ্যুত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
দ্বিতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, হামলার পর অনিরাপদ বোধ করে যারা বাসা বা কটেজ ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছেন, তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি কটেজ ও বাসার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যতদিন তারা নিরাপদ বোধ না করবেন, ততদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত রাখতে হবে। তারা আরও দাবি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে অব্যবহৃত হলগুলো সংস্কার করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্যের অযাচিত মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করেন এবং প্রক্টরিয়াল বডিকে দায়িত্বহীন আচরণের জন্য জবাবদিহি করতে বলেন। ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপও প্রকাশের দাবি জানান তারা।
চতুর্থ দাবি হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গঠন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের দাবি জানান। পঞ্চম দাবিতে শিক্ষার্থীরা দুটি জরুরি হটলাইন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেন—একটি প্রক্টর অফিসের তত্ত্বাবধানে এবং অন্যটি নারী নিপীড়নবিরোধী সেলের অধীনে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আরবি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ উল্লাহ। তিনি বলেন,
আমাদের প্রথম দাবি ছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের সনাক্ত করা। কিন্তু তা না করে অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। এজন্য আহত শিক্ষার্থীরা প্রক্টরিয়াল বডির জবাবদিহি দাবি করছে।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আহত শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ অজ্ঞান হয়ে পড়লে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
