ধানমন্ডিতে নীতিমালা ভঙ্গ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে সচিব পদমর্যাদার ১২ জন সাবেক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তলবকৃতদের মধ্যে দুদকের সাবেক দুই কমিশনারও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য জানতে কর্মকর্তাদের ডাকা হচ্ছে, যা অনুসন্ধান দলের রুটিন কার্যক্রমের অংশ।
তলবকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—দুদকের সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান ও জহরুল হক, সাবেক সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, এম এ কাদের, আকতারী মমতাজ ও মো. সিরাজুল হক খান। এ ছাড়া আইডিআরএ’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম, সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, সাবেক সচিব মো. আনিছুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুককেও তলব করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পে বরাদ্দ নীতিমালা ভঙ্গ করা হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ধানমন্ডির ১৩ নম্বর (বর্তমান ৬/এ) সড়কের ৬৩ নম্বর প্লটে নির্মিত ১৪ তলা ভবনের ১৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২টি সরকারি কোটায় এবং ৬টি বেসরকারি কোটায় বরাদ্দযোগ্য ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম ভেঙে সচিব পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে এই ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে “দিনের ভোট রাতে নেওয়ায় জড়িত” থাকার কারণে ওই কর্মকর্তাদের পুরস্কারস্বরূপ এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত ৫ মে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর দুদক এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ১২ মে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ধানমন্ডি-৬ এর ৬৩ নম্বর প্লটটি মূলত সরকারি খাস জমি, যার বাজারমূল্য বিপুল। সেই জমি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানে ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
