‘পতিত সরকার’ নির্বাচন বানচাল করার জন্য ওত পেতে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক প্রকাশনা ও আলোচনা সভায় তিনি বলেন,
দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল সক্রিয়। তাদের মূল লক্ষ্য আগামী নির্বাচন বানচাল করা।
রিজভী দাবি করেন, এই চক্রান্তের নেটওয়ার্ক শুধু ফ্যাসিবাদের সঙ্গেই নয়, বরং আরও বিভিন্ন অন্তর্ভুক্ত শক্তি এতে জড়িত আছে। তার ভাষায়,
এই ‘পতিত সরকার’ নির্বাচন ঠেকাতে ওত পেতে আছে, তাদের ষড়যন্ত্রের আওয়াজ নিয়মিত শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের মানববিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন,
কীভাবে কিছু মাধ্যম এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম ফলাওভাবে প্রচার করছে?
রিজভীর মতে,
যারা এসব প্রচারে সহায়তা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
সরকারের পতনের পর অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন তারা কারসাজি করেই যাচ্ছে। যা সমাজে নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন,
সরকারের ভেতরে দুর্বলতা বা খুঁত আছে বলেই তারা আসল শত্রুকে চিহ্নিত না করে বিএনপির পেছনে লেগে আছে। এটি তাদের প্রশাসনিক অক্ষমতা ও ভেতরের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে।
রিজভী আহমেদ আরও বলেন,
দেশের জনগণ এখন ভালোভাবেই বুঝে গেছে কারা প্রকৃত গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, আর কারা ছদ্মবেশে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। জনগণ আর প্রতারণার ফাঁদে পা দেবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন,
যদি নির্বাচন বানচালের কোনো অপচেষ্টা হয়, তাহলে জনগণ রাস্তায় নেমে তা প্রতিহত করবে। বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে এক চুলও পিছু হটবে না।
বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
এই কঠিন সময়ে সাহস হারানো চলবে না। সত্যের পক্ষে, জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। পতিত শাসকচক্র যতই চক্রান্ত করুক, জনগণের শক্তির কাছে তাদের পরাজয় অবধারিত।
রিজভীর বক্তব্যে সারাদেশে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
