রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। মঙ্গলবার রাতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন।প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
ফেব্রুয়ারি বেশি দূরে নয়। নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভোটের দিন এসে পড়বে। বহু বছর আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি। এবার আমরা সবাই ভোট দেবো। কেউ বাদ যাবে না। সবাই যেন বলতে পারি— নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে দেশকে রওনা করার জন্য আমি আমার ভোটটা দিয়েছিলাম।
তিনি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, যদি কেউ নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে বসবাস করেন তবে এখন থেকেই নিয়মিত সেখানে যাওয়া শুরু করতে হবে। যাতে সেরা ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা যায়।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা দাবি করেন, দেশের জাতীয় জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরেছে, অর্থনীতিতে গতিশীলতা এসেছে এবং সংকট অনেকটাই দূর হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব এখন নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মাথায় দেয়া ভাষণে তিনি ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপি ও সরকার যৌথভাবে জানায়, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে পারে। আজকের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সময়সূচি নিশ্চিত করলেন।
তিনি আরও বলেন,
তবে নির্বাচনের আগে আমাদের অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ। আজ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে, সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জাতির কাছে জুলাই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেছি।
ভাষণের শেষাংশে তিনি ঘোষণা দেন,
এবার আমাদের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা— নির্বাচন অনুষ্ঠান। আজ এই মহান দিবসে আপনাদের সামনে এ বক্তব্য রাখার পর থেকেই আমরা আমাদের সর্বশেষ এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা এবার একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব।
