বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব: দিল্লির কড়া বার্তা

মুসাইব ইব্রাহিম, ডেস্ক রিপোর্ট

3 Min Read

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতবিরোধী বক্তব্য ও প্রচারণা ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকাস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

একইসাথে, এ ধরনের বয়ানকে ভারত, পরিকল্পিত ও বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছে এবং তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের কিছু চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এসব গোষ্ঠী ভারতীয় মিশনের আশপাশে নিরাপত্তা সংকট তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে দাবি করা হয়। দিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে ভুল ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ ছড়ানো হচ্ছে, তা তারা গ্রহণ করে না। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ভারতের সঙ্গে ভাগ করা হয়নি।

তবে কঠোর ভাষার পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে দিল্লি। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অভিন্ন ইতিহাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ। ভারত বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থানরত সব বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোস্ট রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। ঢাকায় ঘোষিত একটি সংগঠনের ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে ভারত।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি তলব ও অভিযোগে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। দিল্লির বার্তা স্পষ্ট—ভিত্তিহীন অভিযোগ, উসকানিমূলক বক্তব্য বা কূটনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

এর আগে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশ সরকারও নিজেদের উদ্বেগ জানায়। সে সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভারতে অবস্থানরত পলাতক রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য ও তৎপরতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এক স্পর্শকাতর মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে—যেখানে কূটনৈতিক সতর্কতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থাই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পথচলা।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *