বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানের বয়কট বার্তা

স্পোর্টস ডেস্ক

2 Min Read

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এমন দাবি করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিও নিউজ।

সূত্রগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ মেনে না নেয়, তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই ইভেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর আগেই আইসিসিকে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠিতে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ক্রিকেটও সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। চলতি বছরের আইপিএলে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জোরালো করে তোলে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভার্চুয়াল সভার পর আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এরপর বিসিবি ভারতে সফর না করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। ফলে বাংলাদেশ এখন জটিল সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে।

বর্তমানে বিসিবির সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে—একটি হলো দাবি প্রত্যাহার করে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, অন্যটি হলো ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই বৈশ্বিক আসর বর্জন করা। দ্বিতীয় পথ বেছে নিলে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আইসিসির কাছে আরও সময় চাওয়া হয়েছে। আজ বাংলাদেশ সরকার খেলোয়াড়দের সঙ্গে এই ইস্যুতে বৈঠক করবে, এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, দলের অধিকাংশ সিনিয়র খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষেই মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, আইসিসির বক্তব্য হলো—বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজির তৈরি হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *