মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক, ‘কিলো ফ্লাইট’-এর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, বীর উত্তম ইন্তেকাল করেছেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে সামরিক সূত্র থেকে।
মুক্তিযুদ্ধে আব্দুল করিম খন্দকার—যিনি এ কে খন্দকার নামেই অধিক পরিচিত—মুক্তিবাহিনীর উপ-সর্বাধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে অনন্য ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাহিনীর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অঙ্গনে তার অবদান স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শোকবার্তায় প্রকাশ করেন। শোকবার্তায় তাকে একজন প্রকৃত বীর ও দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এ কে খন্দকারের নেতৃত্ব, সততা ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এ কে খন্দকার দুই ছেলে, এক কন্যা ও তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে গত ৮ জুন তার সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে এ কে খন্দকার স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি লাভ করেন বীর উত্তম উপাধি।
একজন বীর সেনানী, সংগঠক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে জাতি হারাল মুক্তিযুদ্ধের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের জীবন্ত সাক্ষী।
