জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় আপসহীন বিপ্লবী হাদি

মাইশা তাসনিম, ডেস্ক রিপোর্ট

2 Min Read

নজরুলের সমাধির পাশে আজ আরেকটি বিদ্রোহী কণ্ঠের নীরব সমাধি। যে কণ্ঠ আপস মানেনি, যে কণ্ঠ মাথা নত করেনি—সেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবির সমাধি প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই স্থান নির্ধারণ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক নামাজ পড়ান। জানাজা শেষে মরদেহ বিশেষ নিরাপত্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনেকের হাতে ছিল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে শোনা যায় শোক আর প্রতিবাদের স্লোগান।

জানাজায় রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের চেয়ে এই উপস্থিতিকে ছাপিয়ে যায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। অনেকেই বলছিলেন, এটি ছিল একজন মানুষের বিদায় নয়, একটি অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা।

শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে জানাজার জন্য মরদেহ আনা হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়, এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো হয়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।

আজ নজরুলের পাশে হাদির কবর শুধু একটি সমাধিস্থল নয়—এটি হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের স্মারক। আপসহীন কণ্ঠ স্তব্ধ হলেও তার অবস্থান রয়ে গেছে, এই সময়ের ইতিহাসে চিহ্ন হয়ে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *