রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বিভাগে সম্পূর্ণ অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন, ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু এবং বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের টেকনিক্যাল ক্যাডার সংযোজন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর এনামুল হক বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রমে অনীহা দেখাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছেন এবং নিয়মিতভাবে বিভাগে উপস্থিত হন না।
একজন শিক্ষার্থী বলেন,
চেয়ারম্যান অনিয়মিতভাবে ক্লাস নেন। অল্প কয়েকটি ক্লাস নিয়েই একটি পূর্ণ ক্রেডিট কোর্স শেষ করেন, এতে আমাদের একাডেমিক ক্ষতি হচ্ছে।
আরেকজন বলেন,
আগে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা ক্লাস নিতেন। এখন স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি খেলাধুলা ও ভ্রমণের বাজেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, উন্নয়ন ফি ও সিলেবাসের মূল্য অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি, অফিসে নথি স্বাক্ষরে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভাগে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তাদের দাবি, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
প্রসঙ্গত, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগটি মূলত মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রায়োগিক শাখা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই প্রশাসনিক অনিয়ম ও সমন্বয়ের অভাবে বিভাগটি ধীরে ধীরে সংকটে পড়েছে, যা এখন সম্পূর্ণ অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে।
