সন্দ্বীপে মো. শিপন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। তিনি সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকার মোজাফফর তহসিলদার বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাখাওয়াত হোসেন ওরফে বকুলের ছোট ভাই।
আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ আইন্না গোপাট এলাকায় তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। পাশেই পড়ে ছিল একটি মোটরসাইকেল। খবর পেয়ে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিপন বিকেলে বাজারের পাশে বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে কয়েকজন অস্ত্রধারী যুবক তাঁকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় চাপাতি ও ছুরি দিয়ে কনুই থেকে তাঁর হাত দুটি প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় এবং ঘাড়ে ও মাথায় উপর্যুপরি কোপ মেরে তাঁকে হত্যা করা হয়। তার মুখের বাঁ পাশেও ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল। তবে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ঘটনা পর্যবেক্ষণে মোটরসাইকেল থামিয়ে মেরেছেন বলে ধারণা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিপনের বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। যদিও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও শিপনের বড় ভাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন বলেন:
সন্দ্বীপে আর কোনও মায়ের বুক খালি হোক না, আর কোনও সন্তান পিতৃহারা না হোক—সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন:
সন্দ্বীপে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সমাজকে অস্থির ও নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে—শিপন হত্যার দায়ীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর দ্রুত অভিযান শুরু করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সফিকুল ইসলাম জানান,
এটি পূর্বশত্রুতার জের ধরেই ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত নিহত শিপনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সন্দ্বীপে ক্রমাগত সহিংসতা ও খুনের ঘটনায় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ৫ই আগষ্টের পর ঘটে যাওয়া ৩ টি হত্যা কাণ্ডের এখনো কোন বিচার হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা নেওয়ার ব্যাপারে রাজনৈতিক চাপে থাকে। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
