“ঢাকা, ২৭ মে — সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এই অধ্যাদেশকে তারা কালো আইন আখ্যা দিয়ে বলছেন, এটি চাকরির নিরাপত্তা ও মর্যাদার পরিপন্থী।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের পাশে বাদামতলায় কর্মচারীরা জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল শুরু হয়ে সচিবালয়ের ভেতর ঘুরে বেড়ায়। বিক্ষোভকারীদের মুখে ছিল নানা স্লোগান। তাদের দাবি, এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চার ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে যে কোনো কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা যাবে। কর্মচারীদের মতে, এই নিয়ম প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ বাড়াবে এবং সরকারি চাকরির প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করবে।
সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর বলেন,
সরকার যে অধ্যাদেশটি পাস করেছে সেটি আমরা মানি না। এটি একটি অমানবিক আইন। আমরা প্রজ্ঞাপন ছাড়া আন্দোলন থেকে সরে আসব না।
আন্দোলনের পাশাপাশি কর্মচারীরা সচিবালয় ভাতা পুনরায় চালু ও রেশন সুবিধা দেওয়ার দাবিও উত্থাপন করেছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনটির নেতারা প্রতিদিন সচিবদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন।
ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মুহা. নূরুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্থগিতের কথা শোনা গেলেও এখনো কোনো লিখিত প্রজ্ঞাপন আসেনি। তাই আমরা মাঠ ছাড়ছি না। প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। সব ফটকে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে র্যাব, সোয়াট, বিজিবি, এপিবিএন এবং পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। সচিবালয়ের ভেতরে এবং বাইরে রয়েছে কঠোর নজরদারি।
সরকার এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও সচিবালয়ের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে তা জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন শুধু চাকরি নয়, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং ন্যায্যতার প্রশ্ন। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ
ছাড়বেন না।
