সাকিবের জন্য বাংলাদেশ দলে দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধের আভাস।

স্পোর্টস ডেস্ক

2 Min Read

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান অধ্যায়ের ইতি টানতে চলেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত। অবসর ঘোষণা না দিলেও আর কখনোই লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামতে পারবেন না সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাকিবকে জাতীয় দলে আর ফিরিয়ে আনার কোনো সুযোগ রাখা হবে না। তিনি বলেন,

তাকে বাংলাদেশের পতাকা বহন বা জাতীয় জার্সির মর্যাদা তুলে ধরার সুযোগ দেয়া হবে না। এই বিষয়ে ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি আমার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে।

ঘটনার সূত্রপাত সাকিবের এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি পোস্ট দেন তিনি। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্রীড়া উপদেষ্টা প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেন এবং শেষ পর্যন্ত এই কড়া সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন।

উপদেষ্টা দাবি করেন, সাকিব আসলে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন,

যতবার খেলতে দেশে ফিরতে চেয়েছেন, আমাকে বলেছেন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। কিন্তু বাস্তবে তার কর্মকাণ্ড প্রমাণ করছে উল্টোটা।

অন্যদিকে সাকিব তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল খেলাধুলা কেন্দ্রিক, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। তার ভাষায়,

তিনি (হাসিনা) সবসময় খেলা ফলো করতেন, তাই সম্পর্কটা খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

এর আগে সাকিবের বিরুদ্ধে দেশে হত্যা মামলা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও দুদকের মামলাও হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি। বিদেশের মাটিতে শেষবার ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলার পর জাতীয় দলে তার ক্যারিয়ার কার্যত থমকে যায়।

ক্রীড়া উপদেষ্টার ঘোষণার পর মনে করা হচ্ছে—এবার সত্যিই সাকিব আল হাসানের ক্রিকেটের শেষ দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *