বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও পোস্টগুলোর উৎস খুঁজে বের করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির পর বিষয়টি এখন তদন্ত সংস্থার নজরেও এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা একটি “উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা”—যার লক্ষ্য নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপালন নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল সেনাপ্রধানের বক্তব্যের কিছু অংশ কেটে বিকৃতভাবে প্রচার করে, যেখানে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়। ভিডিওগুলোর সঙ্গে এমন মন্তব্যও যোগ করা হয়, যা আসল আলোচনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
আইএসপিআরের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে—সেনাপ্রধান কেবল আইনগত দিক তুলে ধরে বলেন, ‘সিআরপিসি ১৩২ ধারায় সেনাসদস্যদের দায়মুক্তি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি কোনোভাবেই আইন পরিবর্তন বা ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেননি, বরং আইনের সীমা ও দায়বদ্ধতার ভারসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিকৃতি ও অপপ্রচার কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং সমন্বিত এক অনলাইন নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আস্থাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও ভিডিওর উৎস শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। কারা এর পেছনে রয়েছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী—তা উদঘাটনের জন্য সাইবার গোয়েন্দা টিম বিশ্লেষণ করছে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম।
আইএসপিআর সকলকে আহ্বান জানিয়েছে, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বা ভিডিও শেয়ার না করতে এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণায় যুক্ত না হতে।
