অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে সংসদের বিশেষ কমিটি। এসব অধ্যাদেশের যৌক্তিকতা ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা ও উদ্বেগ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ৫৫৯ দিনে জারি হওয়া এসব অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন না পেলে সেগুলোর কার্যকারিতা বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি এসব অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া কার্যক্রমও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে কোনগুলো অনুমোদন পাবে, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই ও অনুমোদন করা বাস্তবসম্মত নয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, সীমিত সংখ্যক অধ্যাদেশ নিয়েই সিদ্ধান্ত আসতে পারে, বাকিগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যেসব অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো আইন হিসেবে পাস হলে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে দায়মুক্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইতিহাস বলছে, অতীতেও বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ সংসদে টেকেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জারি হওয়া বহু অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়, আর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আমলের শত শত অধ্যাদেশ পরবর্তীতে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বরং দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
