হজ হলো ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ, যা কাবা শরিফে নির্দিষ্ট নিয়মে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইবাদত করা আল্লাহর আদেশ পালন, গুনাহ মাফের আশায় এবং ইসলামের পূর্ণতা অর্জনের জন্য মুসলমানরা হজ করেন।
চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭,১০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব গমন করছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৫,২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১,৯০০ জন।
আজ ৩১ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৬৮,২৭০ জন হাজী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাকি রয়েছেন আরও ১৮,৮৩০ জন হজযাত্রী, যারা পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌছাবেন । চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত ২৯ এপ্রিল থেকে এবং আজ ৩১ মে পর্যন্ত তা চলমান রয়েছে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন, যা শেষ হবে ১০ জুলাই ২০২৫শে
হজযাত্রীদের সেবায় বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন হজ এজেন্সি নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবছর হজ ব্যবস্থাপনা পূর্বের তুলনায় আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে।
হজযাত্রীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল হজ অ্যাপ, যার মাধ্যমে যাত্রা, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত নানা তথ্য সহজেই জানা যাচ্ছে। রয়েছে মোবাইল রোমিং সেবা। এর ফলে হাজিরা নিজ দেশের সিম ব্যবহার করেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন। ভয়েস কল, এসএমএস ও ইন্টারনেট ব্যবহারে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। পাশাপাশি, রোমিং চালু থাকায় হজ অফিস, মোয়াল্লেম ও মেডিকেল টিমের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে, যা জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ৬ জুন (৮ জিলহজ্জ) এবং শেষ হবে ১০ জুন (১২ জিলহজ্জ)। এবারের হজের প্রতিপাদ্য — “ঐক্য, আত্মশুদ্ধি ও মানবতা”। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সহায়তায় মক্কা ও মিনায় বাংলাদেশ হজ অফিস কাজ করছে ২৪ ঘণ্টা। রয়েছে বাংলাভাষী মোয়াল্লেম ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
হজ খুতবা ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও বাংলা ভাষায় হাজীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের হজে সৌদি আরবের মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। হাজীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে শান্তিতে ইবাদতের সুযোগ পাচ্ছেন।
