প্রায় এক দশক ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন থেকে বঞ্চিত খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম। দক্ষিণাঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমীরা এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিপিএলের সম্ভাব্য ভেন্যুর তালিকায় নাম থাকলেও সংস্কারের অভাবে বড় কোনো আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।
স্টেডিয়ামের ভাঙাচোরা গ্যালারি, নষ্ট ফ্লাডলাইট, জায়ান্ট স্ক্রিন, স্কোরবোর্ডের করুণ দশা ও সাইডস্ক্রিনের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০১৬ সালের কালবৈশাখী ঝড়ে প্রেসিডেন্ট বক্স ও ড্রেসিংরুম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জাতীয় ক্রিকেট লিগের মতো আয়োজনে পর্যন্ত নানা সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।
স্থানীয় কোচদের মতে, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেটারদের উৎসাহ কমে যাচ্ছে এবং নতুন প্রতিভা তৈরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একজন কোচ অভিযোগ করেন, “এত ভালো একটি মাঠ থাকা সত্ত্বেও গাফিলতির কারণে খেলাধুলার প্রাণশক্তি হারাচ্ছে খুলনা।”
একজন এনসিএল ক্রিকেটার জানান, মাঠের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই অনুশীলন বন্ধ হয়ে যায়। তার ভাষায়, “স্টেডিয়ামে ঢুকলেই মনে হয় কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় এসেছি।”
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা একাধিকবার সংস্কারের দাবি তুললেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিরিয়ে আনা হবে খুলনায়।
অন্যদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামকে দ্বিতল গ্যালারিসহ পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে।
২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে খুলনা স্টেডিয়ামের। এখানে তিনটি টেস্ট, চারটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হলেও শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তারপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর দেখা যায়নি দক্ষিণাঞ্চলের এই ভেনুতে।
