রাজনীতি কেবল ক্রিকেটের নয়, ক্ষতি করছে গোটা মানবজাতির: সাকলাইন মুশতাক

স্পোর্টস ডেস্ক

2 Min Read

ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুধু ক্রিকেট নয়, বরং গোটা মানবজাতির জন্যই ক্ষতিকর—এমন মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। তার মতে, রাজনীতি খেলাধুলার মূল চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীত।

বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকলাইন মুশতাক বলেন, রাজনীতি মানবতার বিরুদ্ধে এবং ক্রিকেটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ক্রিকেটের কাজ মানুষকে একত্র করা, বিভাজন সৃষ্টি করা নয়। রাজনীতি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানবজাতিকেই ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০১২–১৩ মৌসুমে পাকিস্তান ভারত সফর করেছিল। এরপর থেকে দুই দল কেবল আইসিসি বা এসিসির আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই একে অপরের বিপক্ষে খেলছে।

বর্তমানে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বৈশ্বিক আসর ছাড়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন হচ্ছে না। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতে খেললেও পরবর্তীতে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারত সরকার ‘তৃতীয় ভেন্যু’ নীতিতে চলে যায়। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের ম্যাচ পাকিস্তানে আয়োজনের সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ক্রিকেটকে রাজনীতিমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে সাকলাইন বলেন, ক্রিকেট কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়; এটি বিনোদনের মাধ্যম এবং মানুষের আনন্দের উৎস। খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়।

বাংলাদেশের ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন সাকলাইন মুশতাক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু বলতে চান না, কারণ তিনি সব সময় খেলাধুলা ও রাজনীতিকে আলাদা রাখার পক্ষে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর ধারাবাহিকতায় আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়া আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাও দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তেজনাকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *