নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ২৪টি কারখানার কার্যক্রম হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত ও অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে, যখন শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রধান ফটক ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হাবিব নামের এক শ্রমিক।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, যথাযথ নোটিশ ছাড়াই ছাঁটাই, অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, নামাজে বাধা, বেতন বৃদ্ধি হলেই ছাঁটাই, পাঞ্চ মেশিনের ওপর ভিত্তি করে বেতন নির্ধারণসহ মোট ২৩ দফা দাবি জানিয়ে তারা আন্দোলন করে আসছিলেন। বিদেশি বিনিয়োগের অজুহাতে অনেক কারখানা শ্রম আইন মানছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ঘটনার পর ইপিজেড এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং চার ঘণ্টা পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুপুরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির কর্মকর্তারা কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করলেও শ্রমিক প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি।
জেলা প্রশাসক জানান, শ্রমিকদের কিছু দাবি যৌক্তিক এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিহত শ্রমিকের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলো কবে পুনরায় চালু হবে, তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
