ব্যাংক থেকে ঋণের নামে সোয়া ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম মাসুদ, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনসহ মোট ৯৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম-১ দুদক কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি জানান, তিনটি মামলায় এস আলম গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে দুই হাজার ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৩০৮ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদ, পরিচালক হিসেবে তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং জনতা ব্যাংকের ২৮ জন কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
আরেক মামলায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুদে-আসলে দুই হাজার ২৯৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭১ টাকা ৫ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়। ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই অনিয়ম ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। এতে সাইফুল আলম মাসুদসহ জনতা ব্যাংকের ২৫ কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ১০ মে থেকে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সুদে-আসলে এক হাজার ৯৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ টাকা ৬১ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়। এ মামলায় সাইফুল আলম মাসুদ, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন, পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য এবং জনতা ব্যাংকের ২৬ কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও পুনঃতফসিলের নামে জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশের মাধ্যমে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৭ ডিসেম্বর সুগার মিল ও সুপার এডিবল মিলের নামে তিন হাজার ৮৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। নতুন এই মামলাগুলোর মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।
দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
