আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এবং ৭৮ জন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৮৩টি দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল বর্তমানে ৫৬ জন সদস্য নিয়ে কাজ করছে, তবে ভোটের সময় এই সংখ্যা বেড়ে ২৭৫ জনে দাঁড়াবে।
এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ফলে ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলেও জানান ইসি সচিব।
নির্বাচনের দিন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন,
তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা বা লিমিট নির্ধারণ করা হবে, যাতে অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি কমানো যায়।
তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী রয়েছেন ৭৬ জন। ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন এবং পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ বা হস্তান্তরের কিছু ঘটনা কমিশনের নজরে এসেছে উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, এ বিষয়ে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে জমা দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, যারা নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন কিন্তু প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে কমিশন কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে আরপিও অনুযায়ী যে কোনো সময় অযোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
