রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়েছেন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার।
সকালে সাড়ে ১০টার কিছু সময় পর উপদেষ্টাদ্বয় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তখন সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের ঘিরে ধরে তীব্র স্লোগানে ফেটে পড়েন। তারা “ভুয়া ভুয়া” বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপদেষ্টাদের বিলম্বিত উপস্থিতি ও সিদ্ধান্তহীনতার বিরুদ্ধে।
বিক্ষোভের মুখে উপদেষ্টারা তৎক্ষণাৎ স্কুল ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন। তাদের সঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও রয়েছেন, যিনি কিছু সময় পর ঘটনাস্থলে এসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন।
ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে,
শুধু প্রটোকল আর কথার ফুলঝুরি না, আমাদের সত্যিকারের উত্তর চাই। আমাদের ভাইবোনেরা মারা গেছে, নিখোঁজ এখনো অনেকে। অথচ উপদেষ্টারা শুধু কথা বলেই দায় শেষ করতে চাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের পেছনে রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর ঘোষণা নিয়ে সরকারের দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং নিহত, আহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ।
স্কুল ক্যাম্পাসে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত হয়নি।
জানা গেছে, উপদেষ্টারা এখন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে মাইক আনা হয়েছে এবং একটি অস্থায়ী মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বক্তব্য শুনবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
এ ঘটনায় উত্তরা এলাকায় জনমনে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু তদন্ত আর ভাষণ নয়—এই ঘটনার জন্য কেউ কি সত্যিকার অর্থে দায় নেবে?
