রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আঙিনায় ঘটে গেলো এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা—যেখানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ গেলো ২৭ জনের। ভয়াবহ এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই ছিল কোমলমতি শিশু। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া এই ছোট্ট প্রাণগুলোর শোক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। নিহতদের মধ্যে বাকি দুজনের একজন ছিলেন বিমানটির পাইলট এবং অন্যজন শিক্ষিকা।
এসময় তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনও শনাক্ত করা যায়নি ৬ জনের মরদেহ। উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে একজনের দেহাবশেষ রাখা আছে, যাকে শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হতে পারে।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা পাঁচজনের জীবন এখনো সংকটে ঝুলছে। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন দুইজনকে রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা।
সন্তানহারা পিতা-মাতার আহাজারিতে হাসপাতাল চত্বর ভারী হয়ে উঠেছে। যাদের সকালের ব্যাগভর্তি বই ছিল, তাদের নাম এখন শুধুই তালিকার কোল্ড স্ট্যাটিস্টিক।
এই দুর্ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে, তবে স্বজনহারাদের জন্য এই আশ্বাস কতটা সান্ত্বনা বয়ে আনবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এখন পুরো জাতি শোকস্তব্ধ—অকালপ্রয়াত শিশুদের স্মরণে আজ পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক। যাদের জীবন শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেলো একটি মুহূর্তেই, তাদের হারানোর ব্যথা দীর্ঘকাল বয়ে বেড়াবে এই জাতি।
এ যেন কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি—একটি প্রজন্মের সম্ভাবনা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার নির্মম অধ্যায়।
