সারাদেশে শুরু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ নজরদারি। ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচনায় রেখে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি অংশ দেশজুড়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও প্রকাশ্যে তাদের তৎপরতা নেই, তবে অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ এবং ছদ্মবেশে সমাবেশের পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে গোয়েন্দা পর্যায়ে।
বিশেষ করে কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন জুলাই মাসজুড়ে সরকারবিরোধী কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’কে কেন্দ্র করে চলমান এসব কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গের আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট, মোবাইল টহল এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তে বিশেষ স্কোয়াড কাজ শুরু করেছে।
মাঠে না থাকলেও আওয়ামী লীগের একাংশ ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘সক্রিয়’ রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সংগঠনের কিছু নেতা ‘ভার্চুয়াল স্কোয়াড’ গঠন করে ফেসবুক, টেলিগ্রাম, ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উসকানিমূলক প্রচারণায় যুক্ত।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “আমরা একযোগে মাঠ ও সাইবার স্পেস—উভয় জায়গাতেই নজরদারি করছি। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে বলা হয়েছে—
সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি বাড়াতে
বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট ও বিমানবন্দর এলাকায় টহল জোরদার করতে
সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতা ও ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি করতে
গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে
বিশেষ অভিযানের সময় সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস এবং ব্যক্তিগত পরিবহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তল্লাশি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শহর ও মফস্বলে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্য দিয়ে এই ১১ দিনকে ঘিরে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরে ভেতরে যে উত্তেজনা জমছে, তার বিস্ফোরণ ঠেকাতে প্রশাসন আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না—এটা এখন পরিষ্কার।
